৮ নয়, ৫ আগস্টই হোক নতুন বাংলাদেশ দিবস’ অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে জামায়াত আমিরের ভিন্নমত।

Jun 29, 2025 - 01:00
Jun 29, 2025 - 01:55
৮ নয়, ৫ আগস্টই হোক নতুন বাংলাদেশ দিবস’ অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে জামায়াত আমিরের ভিন্নমত।

৮ নয়, ৫ আগস্টই হোক নতুন বাংলাদেশ দিবস’ অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে জামায়াত আমিরের ভিন্নমত।

আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে দেশে এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হয়। গত বছরের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামীলীগ সরকারের বিদায়ের পর মাত্র তিন দিন পর ৮ আগস্ট ডা. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেয়। সেই ঐতিহাসিক দিনকে স্মরণীয় করতে সরকার ৮ আগস্টকে ‘নতুন বাংলাদেশ দিবস’ ঘোষণা করেছে। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক, সমালোচনা ও প্রতিক্রিয়ার ঝড়।

গত বুধবার (২৫ জুন) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে একটি পরিপত্র জারি করে ৮ আগস্টকে ‘নতুন বাংলাদেশ দিবস’ হিসেবে পালন করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরিপত্রে বলা হয়, এই দিনটি থেকে শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের নতুন যাত্রা, একটি দুর্নীতিমুক্ত, গণতান্ত্রিক ও অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার সূচনা। তবে এ সিদ্ধান্তকে ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভিন্নমত দেখা যাচ্ছে।

শুক্রবার (২৭ জুন) বিকেল ৩টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “৮ নয়, ৫ আগস্টকেই নতুন বাংলাদেশ দিবস ঘোষণা করা উচিত।” তিনি জানান, ৫ আগস্টেই দেশের মানুষ নিজেদের অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল এবং গণতন্ত্র ও ন্যায়ের প্রতীক হিসেবে সে দিনটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ডা. শফিকুর রহমানের ভাষ্য, “৫ আগস্টেই দেশের মানুষ ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে রাজপথে নেমে আসে। প্রশাসনের প্রতিরোধ, গ্রেপ্তার, নির্যাতন উপেক্ষা করে তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে বলেছিল— আর নয়, এবার পরিবর্তন চাই। সেই দিনটির তাৎপর্য ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে ফেলা ঠিক হবে না।”

এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের ৮ আগস্টকেই ‘নতুন বাংলাদেশ দিবস’ হিসেবে চিহ্নিত করার সিদ্ধান্তে অখুশি দেশের তরুণ প্রজন্ম এবং গণঅভ্যুত্থানের অগ্রণী ভূমিকা পালন করা রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এনসিপির একাধিক শীর্ষ নেতা গণমাধ্যমকে বলেন,

৫ আগস্টেই রাজপথ কাঁপানো গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল। লাখ লাখ মানুষ ঢাকাসহ দেশের প্রতিটি জেলা শহরে সমবেত হয়ে সরকার পতনের আন্দোলনে অংশ নেয়। সে দিন বিকেলেই সরকারের উচ্চ পর্যায়ে জরুরি বৈঠক হয় এবং শেষরাতে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগপত্র জমা দেন। তারা আরও বলেন,

৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের ঘোষণা আসলেও সেটি ছিল ৫ আগস্টের ফলাফল। তাই প্রকৃত অর্থে ৫ আগস্টই হওয়া উচিত ‘নতুন বাংলাদেশ দিবস’। এই দিনটিই গণতন্ত্রের বিজয়ের প্রতীক, ত্যাগের ইতিহাস ও বীরত্বের প্রতিফলন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। অনেকেই লিখছেন, “যে দিন আমরা বিজয় পেয়েছি, সেই ৫ আগস্টই হোক নতুন বাংলাদেশ দিবস। সরকার গঠনের দিন নয়, জনগণের জয় ঘোষণার দিনটাই হোক রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রাপ্ত।”

বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ ও গবেষক ড. মাহবুবুর রশীদ জানান, “গণঅভ্যুত্থান এবং রাজনৈতিক ট্রানজিশনের ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, সাধারণত যেদিন জনগণের বিজয় ঘটে, সেই দিনটিই স্মরণীয় হিসেবে স্বীকৃতি পায়। বর্তমান বিতর্কটি ইতিহাসের স্বাভাবিক গতির অংশ। সরকারের উচিত বিষয়টি নিয়ে গণশুনানি বা সর্বদলীয় পরামর্শ গ্রহণ করা।”

উল্লেখ্য, জামায়াত আমিরের মতামত প্রথমবারের মতো এই ইস্যুতে প্রকাশ্যে আসলো। যদিও দলটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি এখনো দেওয়া হয়নি, তবে ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যকে দলের অবস্থান বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

অন্যদিকে সরকারপক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় ঐকমত্য গঠনের উদ্দেশ্যে পরবর্তী সময়ে দিবসের নাম ও তারিখ পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে। আলোচনার কেন্দ্রে থাকা এই ইস্যু এখন দেশের রাজনৈতিক পরিসরে গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ‘নতুন বাংলাদেশ’ গঠনের প্রতীকী এই দিবস নিয়ে নতুন করে জনমত গঠনের প্রয়োজনীয়তা ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।