সকালে ‘জয়বাংলা’ স্লোগানে আ.লীগ অফিসে পতাকা উত্তোলন, বিকেলে আগুন ও ‘পাবলিক টয়লেট’ ঘোষণ

Feb 21, 2026 - 20:10
সকালে ‘জয়বাংলা’ স্লোগানে আ.লীগ অফিসে পতাকা উত্তোলন, বিকেলে আগুন ও ‘পাবলিক টয়লেট’ ঘোষণ

 

 মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা।।

জামালপুরের বকশীগঞ্জে একই দিনে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়কে ঘিরে পাল্টাপাল্টি ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সকালে ‘জয়বাংলা’ স্লোগান দিয়ে কার্যালয়ে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হলেও বিকেলে সেখানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি কার্যালয়টিকে ‘পাবলিক টয়লেট’ হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে কয়েকজন ব্যক্তি ‘জয়বাংলা’ স্লোগান দিয়ে বকশীগঞ্জ পৌর শহরে অবস্থিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর স্থানীয় দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করে পতাকা উত্তোলন করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এসময় তারা কিছুক্ষণ অবস্থান করে বিভিন্ন স্লোগান দেন। ঘটনাটি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং রাজনৈতিক মহলে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

 অপরদিকে ‘জুলাই ঐক্য বকশীগঞ্জ’ নামে একটি সংগঠন, যারা নিজেদের জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারী হিসেবে পরিচয় দেয়, বিকালে সারমারা বাজারে অবস্থিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর কার্যালয়ের সাইনবোর্ড খুলে আগুন দেয় এবং বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। পরে কার্যালয়টিকে ‘পাবলিক টয়লেট’ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে নতুন সাইনবোর্ড টানানো হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।    

এ সময় সারমারা বাজার এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। পরে বগারচর ইউনিয়ন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর উদ্যোগে একই ঘটনায় আরও একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।মিছিলে নেতৃত্ব দেন বগারচর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম। এসময় বগারচর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সোহেল রানা পলাশ সহ দলীয় নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। মিছিলটি সারমারা বাজার প্রদক্ষিণ করে দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। বিক্ষোভ মিছিল শেষে এর প্রতিবাদে বিএনপির কার্যালয়ে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, “জনগণের মতামত উপেক্ষা করে কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রম চালানো হলে তা মেনে নেওয়া হবে না।” তারা দাবি করেন, “এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সকলকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।” বক্তারা আরও বলেন, “রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও সহিংসতা কোনো সমাধান নয়।” একই সঙ্গে তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, দলীয় কার্যালয়ের দেয়ালে ‘পাবলিক টয়লেট’ লেখা একটি সাইনবোর্ড টানানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।