১৪ বছর পর খুলনায় নতুন কারাগার আংশিক কার্যক্রম শুরু

খুলনায় দীর্ঘ ১৪ বছরের অপেক্ষার পর নতুন জেলা কারাগার আংশিক সক্ষমতা নিয়ে চালু হচ্ছে। প্রথম ধাপে ১০০ সাজাপ্রাপ্ত বন্দি স্থানান্তর করা হবে। নতুন কারাগারটি আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পৃথক ব্যারাক, হাসপাতাল, মোটিভেশন সেন্টার ও কিশোর-বিভাগ সুবিধাসহ নির্মিত।

Nov 1, 2025 - 12:43
১৪ বছর পর খুলনায় নতুন কারাগার আংশিক কার্যক্রম শুরু

মোঃ নুরুল্লাহ (অভয়নগর, যশোর) প্রতিনিধি :খুলনা শহরে দীর্ঘ ১৪ বছরের অপেক্ষার পর নতুন জেলা কারাগার আংশিক সক্ষমতা নিয়ে চালু হতে যাচ্ছে। কারাগার কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শনিবার (১ নভেম্বর) প্রথম ধাপে ১০০ সাজাপ্রাপ্ত বন্দিকে নতুন কারাগারে স্থানান্তর করা হবে। পরে ধাপে ধাপে আরও বন্দি নেওয়া হবে।

নতুন কারাগারটি আধুনিক নিরাপত্তা ও সংশোধন ব্যবস্থার সমন্বয়ে নির্মিত। এখানে সাজাপ্রাপ্ত ও বিচারাধীন বন্দিদের জন্য পৃথক ভবন, নারীদের জন্য হাসপাতাল ও মোটিভেশন সেন্টার, কিশোর ও কিশোরীদের জন্য আলাদা ব্যারাক রয়েছে। বন্দিদের চিকিৎসার জন্য ৫০ শয্যার হাসপাতাল তৈরি করা হয়েছে। কারারক্ষীদের পরিবার ও সন্তানদের জন্য স্কুল, লাইব্রেরি, ডাইনিং, আধুনিক সেলুন ও লন্ড্রির সুবিধা রাখা হয়েছে।

কারাগারের প্রধান ফটক পার হতেই চোখে পড়বে প্রশস্ত খোলা স্থান, পাকা পথ ও রঙিন বহুতল ভবন। বন্দিদের জন্য প্রতিটি ভবনের চারপাশে আলাদা সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া গোসলের পুকুর, হাজিরার মাঠ, ওয়াচ টাওয়ারসহ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

নতুন কারাগারটি ২০১১ সালে একনেকে অনুমোদন পেয়েছিল। ২০১৬ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রকল্পটি কয়েকবার সময় বাড়ানো হয়েছে এবং ব্যয় বেড়ে ২৮৮ কোটি টাকা হয়েছে। নতুন কারাগার মাস্টারপ্লান অনুযায়ী সর্বমোট ৪ হাজার বন্দি রাখতে সক্ষম, তবে আপাতত ২ হাজার বন্দির জন্য অবকাঠামো প্রস্তুত করা হয়েছে।

জেলা কারাগারের কর্মকর্তা জানাচ্ছেন, পূর্ণাঙ্গ জনবল না পাওয়ার কারণে প্রাথমিকভাবে ছয়তলা পুরুষ হাজতি ব্যারাক ও নারী ও কিশোরী বন্দিদের ব্যারাক চালু রাখা হবে। নতুন কারাগারে ৭০ জন কারারক্ষী স্থানান্তরিত করা হয়েছে এবং ১ নভেম্বর আরও ২০ জন কারারক্ষী দায়িত্ব পালন করবেন।

খুলনার দুই কারাগার আলাদা কার্যক্রম চালু থাকলেও কর্মকর্তা একই থাকবেন। পুরোনো কারাগার মহানগরীর বন্দিদের জন্য কার্যকর থাকবে, নতুন কারাগারে জেলার ৯ উপজেলার বন্দি রাখা হবে। এর ফলে খুলনার কারাগারে বন্দির চাপ কিছুটা কমবে।

গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, মোট ৫৭টি স্থাপনা নির্মিত হয়েছে, যার মধ্যে ১১টি ভবন শুধু বন্দিদের থাকার জন্য। সবকিছু ইতিমধ্যেই কারা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।