দাবি না মানলে এনবিআর পুরোপুরি বন্ধ! বড় ঘোষণা আন্দোলনকারীদের |

Jun 23, 2025 - 19:47
Jun 23, 2025 - 21:27
দাবি না মানলে এনবিআর পুরোপুরি বন্ধ! বড় ঘোষণা আন্দোলনকারীদের |

এনবিআর চেয়ারম্যানের অপসারণসহ ৬ দফা দাবি: ২৮ জুন থেকে শাটডাউনের হুমকি এনবিআর কর্মকর্তাদের।

জাতীয় রাজস্ববোর্ডের(এনবিআর) চেয়ারম্যানকে অপসারণসহ একাধিক দাবিতে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ। সংগঠনটি জানিয়েছে, দাবিগুলো পূরণ না হলে আগামী ২৮ জুন থেকে কর, কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের সব দপ্তরে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু হবে। চলমান ‘কলম বিরতি’ ও অবস্থান কর্মসূচিও অব্যাহত থাকবে।

সোমবার (২৩ জুন) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর ভবনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। উপস্থিত ছিলেন এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের সভাপতি অতিরিক্ত কমিশনার হাছান মুহাম্মদ তারেক রিকাবদার ও মহাসচিব অতিরিক্ত কর কমিশনার সেহেলা সিদ্দিকা।

এর আগে এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাফনের কাপড় পরে কলম বিরতি পালন করেন, যা রাজস্ব বিভাগে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করে।

সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সম্প্রতি যেসব বদলির আদেশ জারি হয়েছে, তা অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। এনবিআর চেয়ারম্যানকে অপসারণ এবং রাজস্ব অধ্যাদেশ সংস্কারের জন্য গঠিত কমিটি বাতিল করে সেখানে সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। প্রশ্নবিদ্ধ সদস্যদের বাদ দিয়ে নতুনভাবে কমিটি গঠন করার দাবিও জানানো হয়।

ঘোষণা অনুযায়ী, ২৪ জুন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ঢাকার কর, কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের সব দপ্তরে অবস্থান কর্মসূচি ও কলম বিরতি চলবে। ঢাকার বাইরে নিজ নিজ দপ্তরেও একইভাবে কর্মসূচি পালন করা হবে। চেয়ারম্যান ও তার সহযোগীদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করা হবে। আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবা ও রপ্তানি এই কর্মসূচির আওতামুক্ত থাকবে।

নতুন করে কোনো বদলি আদেশ হলে ২৫ ও ২৬ জুন দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কলম বিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি চলবে। সেসময়ও আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবা ও রপ্তানি ব্যতীত সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে এবং চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চলবে।

সংগঠনের নেতারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ২৭ জুনের মধ্যে যদি এনবিআর চেয়ারম্যানকে অপসারণ ও বদলি আদেশ বাতিল না করা হয়, তাহলে ২৮ জুন থেকে দেশের সব কর, কাস্টমস ও ভ্যাট দপ্তরে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ শুরু হবে। শুধু আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবা এর বাইরে থাকবে।

সংগঠনের বক্তব্য, “আমরা সংঘাত চাই না। কিন্তু আমাদের যৌক্তিক দাবি না মানা হলে দেশজুড়ে রাজস্ব সংগ্রহ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। এর দায় প্রশাসনকে নিতে হবে।”