খাজুরা পশ্চিম পাড়া জামে মসজিদ: ধর্মীয় ঐক্য ও স্থাপত্যের অনন্য প্রতীক
ঝিনাইদহ জেলার সদর উপজেলার খাজুরা গ্রামের পশ্চিম পাড়ায় অবস্থিত খাজুরা পশ্চিম পাড়া জামে মসজিদ ,
আজ শুধু একটি ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, বরং একটি দর্শনীয় স্থানে রূপ নিয়েছে। ইসলামিক স্থাপত্যশৈলীর নিপুণ কাজ এবং স্থানীয় জনগণের আন্তরিক প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠা এই মসজিদ প্রতিদিন শত শত ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও দর্শনার্থীকে আকৃষ্ট করছে।
মসজিদের সৌন্দর্য ও স্থাপত্য এতটাই মনোমুগ্ধকর যে, এটি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বহু ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ মসজিদটি এক নজর দেখতে আসেন। মার্বেলঘেরা আঙিনা, প্রশস্ত নামাজঘর এবং আধুনিক ডিজাইনের গম্বুজ ও মিনার দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কাড়ে।
মসজিদের ইমাম মাওলানা মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন,“এই মসজিদ শুধু নামাজ আদায়ের স্থান নয়, এটি আমাদের সমাজের ঐক্য, ভালোবাসা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতীক। প্রতিদিন ফজর থেকে এশা পর্যন্ত নিয়মিত জামাত হয়। বিশেষ করে জুমার দিনে মুসল্লিদের সংখ্যা বাড়ে, দূরদূরান্ত থেকেও মানুষ আসে।”
মসজিদ কমিটির সভাপতি মোঃ আব্দুল বাছির জানান,“প্রায় ৫ বছর আগে আমরা এই মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা শুরু করি। স্থানীয় মুসলমানদের দান ও সহযোগিতায় প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। কোনো প্রকার সরকারি অনুদান ছাড়াই এ কাজ করা হয়েছে। আমরা গর্বিত যে, সম্পূর্ণ জনগণের ভালোবাসা দিয়ে এটি গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে।
”*মসজিদটির নিচতলায় রয়েছে প্রশস্ত ও ঠান্ডা নামাজঘর,যা গরমকালেও আরামদায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করে। গম্বুজ ও মিনারের ডিজাইন স্থানীয় কারিগরদের হাতে তৈরি, যা ইসলামিক নকশার এক চমৎকার উদাহরণ। এর পাশেই রয়েছে খাজুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফলে শিশু ও অভিভাবকদের ধর্মীয় শিক্ষা ও অনুশীলনের একটি কেন্দ্র হিসেবেও এটি পরিচিত।
খাজুরা পশ্চিম পাড়া জামে মসজিদ শুধু একটি ইমারত নয়; এটি ধর্মীয় বিশ্বাস, সৌন্দর্যবোধ, একতা ও ভালোবাসার প্রতীক। মসজিদটি স্থানীয়দের আত্মমর্যাদার অংশ হয়ে উঠেছে। যদি সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও প্রচার করা হয়, তবে এটি একদিন দেশের অন্যতম দর্শনীয় ধর্মীয় স্থাপত্যে পরিণত হতে পারে।


