ব্যাংককে ইউনূস-মোদী বৈঠকের ‘যথেষ্ট সম্ভাবনা’ দেখছে ঢাকা
”আমাদের আশা করার সঙ্গত কারণ আছে,” বলেন প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা বিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ খলিলুর।
থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বৈঠকের ‘যথেষ্ট সম্ভাবনার’ কথা বলেছেন হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ খলিলুর রহমান।
বুধবার রাজধানী ঢাকায় ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা সমস্যা ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়াবলিসংক্রান্ত হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ খলিলুর বলেন, “আমরা এই বৈঠকটার জন্য অনুরোধ করেছি সরকারিভাবে। আমাদের আশা করার সঙ্গত কারণ আছে। এই বৈঠক হবার যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে।”
ব্যাংককে বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের সাত দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিষয়ক জোট বিমসটেকের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলন হবে আগামী ৪ এপ্রিল-শুক্রবার। এরইমধ্যে বুধবার জোটের সদস্য দেশগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পর্যায়ের বৈঠকে ঢাকার প্রতিনিধিত্ব করেছেন পররাষ্ট্র সচিব জসীম উদ্দিন।
বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দেবেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। এদিন ঢাকা থেকে রওনা গিয়ে পরদিন শুক্রবার শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস।
প্রতিবেশী দুদেশের সম্পর্কের ‘স্থবিরতার’ মধ্যে এ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব দিয়ে দিল্লিতে চিঠি পাঠিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
তবে ওই চিঠির জবাব না পাওয়ার মধ্যে মোদীর প্রকাশিত সফরসূচিতে ইউনূসের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কোনো বিষয় ছিল না।
ওই চিঠির প্রতিউত্তরের জন্য অপেক্ষায় থাকার কথা তুলে ধরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বলছে, বৈঠকটি হলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ‘স্থরিবতা’ কাটার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
পররাষ্ট্র সচিব জসীম উদ্দিন ২৫ মার্চ এক সম্মেলনে বলেন, “আমরা যে কোনো দেশের সাথে শীর্ষ পর্যায়ের যে বৈঠক, সেই বৈঠককে আমরা গুরুত্বপূর্ণ মনে করি এবং ভারতের সাথে আমাদের সম্পর্কের বর্তমান যে প্রেক্ষাপট, সেই প্রেক্ষাপটে এই বৈঠকটিকে আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।
রাজধানী ঢাকায় ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে বুধবার ব্রিফিং করেন প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা সমস্যা ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়াবলিসংক্রান্ত হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ খলিলুর রহমান।
“এবং আমরা আশা করি যে, যদি এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে যে স্থবিরতা, সেটা কেটে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।”
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ক্ষমতাচ্যুত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেদিনই তিনি ভারতে চলে যান। তিন দিন পর সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নেয় মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার।
এরপর থেকে প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের সঙ্গে প্রতিবেশী ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদীর দুই দফায় দেখা হওয়ার সুযোগ তৈরি হলেও তা হয়ে ওঠেনি। বিমসটেকের সম্মেলনে তাদের বৈঠক হবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছিল।
ঢাকা থেকে ৩ এপ্রিল-বৃহস্পতিবার গিয়ে পরদিন ব্যাংককে বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস।
বুধবার ব্যাংককে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বৈঠকের পর পররাষ্ট্র সচিব জসীম উদ্দিনও ইউনূস-মোদী বৈঠক নিয়ে প্রায় একই রকমের বক্তব্য দেন।
বৈঠকের বিষয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমরা এই বৈঠকের জন্যে ভারতীয় পক্ষকে অ্যাপ্রোচ করেছি এবং আমরা একটা ইতিবাচক উত্তরের অপেক্ষায় আছি।”
ভারতীয় এক সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমাদের দিক থেকে একটা অনুরোধ জানানো হয়েছে। আমরা নিশ্চয়ই আশা করি, বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে “
এবারের শীর্ষ সম্মেলনের মাধ্যমে বিমসটেকের সভাপতির দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এ দায়িত্ব নিয়ে ‘বাস্তবসম্মত উপায়ে’ আঞ্চলিক সহযোগিতা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ খলিল।
এক প্রশ্নে তিনি বলেন, “আঞ্চলিক জোটগুলো বিভিন্ন দেশকে একত্রিত করে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের প্রচেষ্টা চালায়। আমাদের এই অঞ্চলে কানেক্টিভিটি একটা অত্যন্ত প্রধান বিষয়। আঞ্চলিক সহযোগিতা ছাড়া সেটা করা সম্ভব নয়। দ্বিতীয়ত, এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে যে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, এটাও এই অঞ্চলের কোনো দেশ, বিশেষ করে ছোট ছোট দেশগুলোর এককভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।
“আপনি যখন জোটবদ্ধভাবে এই সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করবেন, সমস্যা সমাধানের সম্ভাবনাটা সেই পরিমাণ বাড়বে। আপনাকে আশাবাদী থাকতেই হবে।”
এ জোটে গত ২৫ বছরে উল্লেখযোগ্য কোনো ‘ফুটপ্রিন্ট’ দেখতে না পাওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “এবার প্রথমবারের মত কিছু ফোকাসড এরিয়া, যেগুলো খুব ভালোভাবে নির্দিষ্ট হয়েছে। আমাদের প্রচেষ্টা হবে, সেগুলো এগিয়ে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়া।”



