বদলগাছীতে শিক্ষকের পরকীয়ায় প্রধান শিক্ষককে ধাওয়া শিক্ষাঙ্গনের কলঙ্ক এলাকায় তোলপাড় ।

Nov 6, 2025 - 15:39
বদলগাছীতে শিক্ষকের  পরকীয়ায় প্রধান শিক্ষককে ধাওয়া শিক্ষাঙ্গনের কলঙ্ক এলাকায় তোলপাড় ।
1 / 1

1. বদলগাছীতে শিক্ষকের পরকীয়ায় প্রধান শিক্ষককে ধাওয়া শিক্ষাঙ্গনের কলঙ্ক এলাকায় তোলপাড় ।

মাওলানা রেজাউল করিম নওগাঁ
 জেলা প্রতিনিধি 
 

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার  বেগুনজোয়ার দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক  প্রধান শিক্ষক ও সহকারি শিক্ষিকার একটি  অনৈতিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গত ২৩ সালে  ভিডিও ভাইরাল হলে শিক্ষা নীতিমালার  প্রক্রিয়ায় হাজারো জনতা সহ শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে বহিষ্কার হয়েছিলেন। সেই আলোচিত শিক্ষক শামীম  গত ৫ নভেম্বর২০২৫ ইং সকাল সাড়ে১০টায় বেগুনজোয়ার উচ্চ বিদ্যালয়ে   প্রবেশের চেষ্টা করলে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তাকে ধাওয়া করলে নদী সাতরিয়ে পালিয়ে যান।
  সরজমিনে গিয়ে জানা গেছে শিক্ষক শাদাত হোসেন শামীম ও সহকারী শিক্ষিকা রিফাত আরার ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের একটি ভিডিও ২০২৩ সালের ৫ জুলাই সামাজিক যোগাযোগ  মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন হলে এবং ততকালীন উপজেলা নির্বাহীঅফিসারের গাড়ি অবরোধের মাধ্যমে সাময়িক বহিষ্কার সহ আইনগত ব্যবস্থার জন্য বাস্তচিএ ঘটেছিল  । পরে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড শিক্ষক  শামীমকে বরখাস্ত করেনবলে জানা যায়। শিক্ষক রেজাউল করিমকে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব  প্রদানে শান্তিপূর্ণভাবে উক্ত শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে  আসছে ।
 স্হানীয় এলাকাবাসী সুএে জানা গেছে, গত ৫ নভেম্বর সকালে শামীম স্হানীয় কিছু লোকজন নিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিদ্যালয়ের  শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ চালায়। এবং তারা স্লোগানে স্লোগানে   প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি থুমকে গিয়ে  উত্তেজনা চরমে ওঠে। অবস্থার বেগতী দেখে কতিপয় জনতার সহায়তায় সেই আলোচিত শিক্ষক  শামীম নিরাপত্তাহীনতায় শিক্ষার্থীদের ধাওয়া খেয়ে  দ্রুত বিদ্যালয় থেকে নদী সাতরিয়ে পালিয়ে যান।  শারীরিক আক্রমণের আঘাতের কোন সৃষ্টি হয়নি বলে  স্থানীয় সুএে জানা  গেছে ।

এবিষয়ে সাবেক শিক্ষক  সাবেক শিক্ষক শাহাদাত হোসেন শামীম   অভিযোগ করেছেন, তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, এবং আদালত তার পক্ষে রায় দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, “হাইকোর্ট আমাকে পদ ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন, সঙ্গে  বকেয়া বেতন প্রদানের আদেশ ও দিয়েছে সেই রায়ের কাগজ উপজেলা নির্বাহীঅফিস ও থানায় জমা দেওয়া আছে বলে  তিনি দাবি করেছেন।তিনি বলেন কিছু অসৎ ব্যাক্তির ইন্ধনে শিক্ষার্থীরা তাকে আক্রমণ করেছে ।

অন্যদিকে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম বলেন , হাইকোর্টের যে রায় দেখানো হয়েছে তা সন্দেহজনক  কাগজ বলে মনে হচ্ছে। তিনি আরও  বলেন, সে গ্রামের লোকজন নিয়ে জোর করে প্রতিষ্ঠানে ঢুকতে চেষ্টা করেন এবং শিক্ষার্থীদের উপর আক্রমণ চালিয়েছে। এতে সাতজন শিক্ষার্থী আহতের দাবি জানান । সঠিক  বিচার না হওয়া পর্যন্ত  তাকে বিদ্যালয়ে ফিরতে দেবে না শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকগণ। ”

বদলগাছী থানার ওসি আনিছুর রহমান জানান,আমি  ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি  এবং  প্রদত্ত রায়ের কাগজপত্র দেখিয়েছেন, বিষয়টি তদন্তের কাজ চলছে  । এবং তিনি উপস্থিত  সবাইকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান । 
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শফিউল আলম বলেন, আমি  বর্তমানে ছুটিতে আছি, ফিরে  দুই পক্ষের সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করব। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত জাহান ছনি বলেন, বিস্তারিত খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

স্থানীয় অভিভাবক ও অবসরপ্রাপ্ত  শিক্ষক সমাজ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বলেন, শিক্ষক মানুষ হলে তাদের আচরণ আদর্শগত হওয়া উচিত; এ ধরনের ঘটনা শিক্ষাঙ্গনের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে।কতিপয় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সহ সচেতন মহল আরও  বলেন গোটা উপজেলার শিক্ষা অঙ্গনটি বর্তমানে এই ধরনের শিক্ষকদের কারণে প্রশ্নের মুখে  অভিভাবকরা  হতাশা, তারা দ্রুত অমানবিক নিষ্ঠুরতা,বিবেকহীন শিক্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি বহিষ্কার  দাবি করেন।  এবং সকল শিক্ষাঙ্গনের সুনাম রক্ষায় সকল অভিভাক সহ শিক্ষা কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে  হবে।

বর্তমানে  এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে, এবং শিক্ষার্থী-অভিভাবক-শিক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। যেন কর্তৃপক্ষ ঘটনার সার্বিক তদন্ত করে  আইনের সঠিক  ব্যবস্থার আশাবাদী বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন শিক্ষা অঙ্গন কর্তৃপক্ষের বিবেকের কাছে ।