পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা: সিন্ডিকেটের চক্রান্তে দ্বিগুণ দাম!
দেশজুড়ে ভরা মৌসুমেও পেঁয়াজের কেজি বেড়েছে ২৫ থেকে ৩৫ টাকা পর্যন্ত। মাত্র কয়েকদিন আগেও ৩০-৩৫ টাকায় পাওয়া গেলেও এখন সেই পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬৫-৭০ টাকায়। বাজার বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি কোনো প্রাকৃতিক পরিস্থিতি নয়, বরং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাজার অস্থির করার অপচেষ্টা।
বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, একটি অসাধু চক্র কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি পেঁয়াজ কিনে বাজারে সরবরাহ না করে অবৈধভাবে মজুত করছে। তারা ভারত থেকে আমদানি বন্ধের অজুহাতে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সরকারকে চাপের মুখে ফেলতে চাচ্ছে। তাদের দাবি, ভারত ছাড়া দেশের পেঁয়াজ চাহিদা পূরণ সম্ভব নয়—এ বার্তাই তারা দিতে চাচ্ছে।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই চক্রটি আগামী ২-৩ মাসের মধ্যে দেশি পেঁয়াজের দাম ১০০ টাকা ছাড়িয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। রমজানে ৩০-৩৫ টাকা দরে বিক্রি হওয়া পেঁয়াজ ঈদের পর থেকে ধাপে ধাপে বাড়িয়ে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৬৫-৭০ টাকায়।
কারওয়ান বাজারের পাইকারি আড়তে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজের দাম এখন ৫০-৫৫ টাকা, যেখানে এক সপ্তাহ আগেও তা ছিল ৪০-৪৫ টাকা। পাইকারি বিক্রেতারা বলছেন, তারা নিজেরাও বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন, ফলে খুচরা বাজারে বাড়তি দামে বিক্রি ছাড়া উপায় নেই।
বাজার করতে আসা যাত্রাবাড়ীর মো. শামছুজ্জামান তুর বলেন, “রমজানে স্বস্তি ছিল। ঈদের পর বাজারে আবারও অস্থিরতা শুরু হয়েছে। যে পেঁয়াজ ৩০ টাকায় কিনতাম, এখন তা কিনতে হচ্ছে ৬৫ টাকায়। সবজির দামও বেড়েছে।”
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, “কারা বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে তা সরকারের অজানা নয়। বাজারে অস্থিরতা তৈরি করা চক্রকে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।”
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পেঁয়াজের দাম বাড়ার কারণ খুঁজে বের করতে তিন স্তরের তদারকি দল মাঠে নামানো হয়েছে।
ভরা মৌসুমে পেঁয়াজের হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধি জনমনে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বাজার স্থিতিশীল রাখতে কার্যকর মনিটরিং ও অসাধু মজুতদারদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।



