পথ শিল্পাঙ্গনের গুণীজন সম্মাননায় আলোকিত শৈলকুপা – পাঁচ গুণী শিল্পী পেলেন বিশেষ স্বীকৃতি
নাজমুল এইচ খান শৈলকুপা (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা বুধবার (১৯ সেপ্টেম্বর) পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক মিলনমেলায়। দেশের সংস্কৃতিচর্চা ও শিল্পকর্মে অসামান্য অবদান রাখা স্থানীয় ৫ গুণী শিল্পীকে “পথ শিল্পাঙ্গন গুণীজন সম্মাননা” প্রদান করা হয়। শৈলকুপা পাবলিক হল ও লাইব্রেরির প্রকৌশলী ড.গোলাম মোস্তফা মিলনায়তনে আয়োজিত এ বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে শিল্পী-সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ শতাধিক মানুষ অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও অতিথি অভ্যর্থনার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর ‘পথ শিল্পাঙ্গন’-এর পক্ষ থেকে গুণীজনদের জীবন ও কর্মের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরা হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) স্নিগ্ধা দাস প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সম্মাননা ক্রেস্ট ও উপহার তুলে দেন। ইউএনও স্নিগ্ধা দাস বলেন,
“যাঁরা শিল্প-সংস্কৃতির মাধ্যমে সমাজকে আলোকিত করছেন, তাঁদের স্বীকৃতি দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। স্থানীয় পর্যায়ে এমন উদ্যোগ শিল্পীদের কাজকে আরও গতিশীল করবে।”
সম্মাননা প্রাপ্ত ৫ গুণী শিল্পী
- ফিরোজ খান নুন – বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের গুণী শিল্পী ও গীতিকার।
- সুনীল জোয়ার্দার – দীর্ঘদিন ধরে সঙ্গীতচর্চায় নিবেদিত সংগীতশিল্পী ও প্রশিক্ষক।
- তৌফিকুল ইসলাম মাসুদ – বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের শিল্পী ও প্রশিক্ষক।
- সৈয়দ হাবীবুর রহমান সুমন – যশোর-খুলনা অঞ্চলের খ্যাতিমান নৃত্যশিল্পী ও প্রশিক্ষক।
- মনিরুজ্জামান পলাশ – বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের উপস্থাপক, আবৃত্তিকার, চিত্রশিল্পী এবং জনপ্রিয় ‘ইত্যাদি’ অনুষ্ঠানের একাধিক গানের গীতিকার।
প্রতিটি গুণীজনের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়ার সময় মিলনায়তনে করতালির ধ্বনি ও শুভেচ্ছার উচ্ছ্বাসে মুখরিত হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ‘সংস্কৃতি একটি জাতির মেরুদণ্ড। গুণীজনদের সম্মাননা দেওয়া মানে আগামী প্রজন্মকে শিল্প-সংস্কৃতির প্রতি অনুপ্রাণিত করা।’
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক, শিক্ষার্থী ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা। শেষে ‘পথ শিল্পাঙ্গন’-এর শিল্পীদের পরিবেশনায় সংগীত, আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশন করা হয়।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, “এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে দেশব্যাপী মেধাবী ও নিবেদিত শিল্পীদের খুঁজে বের করে স্বীকৃতি দেওয়া এবং স্থানীয় সংস্কৃতির বিকাশে নতুন প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করাই আমাদের উদ্দেশ্য।”



