ভাই-বোনকে ঠকিয়ে জমি হাতিয়ে নেওয়ার সুযোগ এবার শেষ, থাকবে না আর যৌথ খতিয়ান।
বাংলাদেশে ভূমি সংক্রান্ত দীর্ঘস্থায়ী জটিলতা ও দেওয়ানি মামলার বোঝা কমাতে সরকার নতুন করে বাংলাদেশ ডিজিটাল সার্ভে (বিডিএস) কার্যক্রম শুরু করেছে। এ উদ্যোগের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এবার থেকে পারিবারিক বা উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি আর যৌথ খতিয়ানের ভিত্তিতে রেকর্ড হবে না। বরং প্রতিটি খতিয়ান থাকবে একজন মালিকের নামে এবং প্রতিটি দাগের জন্য নির্ধারিত মালিকানা আলাদা করা হবে।
ভূমি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এতদিন যৌথ খতিয়ানের কারণে জমির মালিকানায় অস্পষ্টতা, ভাই-বোন বা উত্তরাধিকারীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব, প্রতারণা এবং দীর্ঘমেয়াদি দেওয়ানি মামলার সৃষ্টি হতো। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের দেওয়ানি মামলার প্রায় ৭৫ শতাংশই পারিবারিক সম্পত্তি বা যৌথ খতিয়ান ভিত্তিক জমি নিয়ে।
নতুন নীতির আওতায়, যেসব জমি একাধিক উত্তরাধিকারী পেয়েছেন, সেখানে এখন বাধ্যতামূলকভাবে বণ্টন বা বাটোয়ারার দলিল তৈরি করতে হবে। এই দলিল ছাড়া কোনো উত্তরাধিকারী জমি বিক্রি করতে বা নামজারি করতে পারবেন না। যদি কেউ গোপনে বিক্রির চেষ্টা করেন, তবে সাব-রেজিস্ট্রার কর্তৃক রেজিস্ট্রেশনও বাতিল বলে গণ্য হবে। এমনকি সাব-রেজিস্টার আইন ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকার বলছে, এ নীতির ফলে—
* জমি কেনাবেচায় স্বচ্ছতা আসবে
* ভাই-বোন বা উত্তরাধিকারীদের মধ্যে ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা বন্ধ হবে
* ভূমি মালিকরা ভবিষ্যতে হয়রানি থেকে মুক্তি পাবেন
* দেওয়ানি মামলার সংখ্যা ব্যাপক হারে কমে আসবে
ভূমি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারের এ পদক্ষেপ ভূমি ব্যবস্থাপনায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে। তবে অনেক পরিবারে যেখানে একসাথে বণ্টন দলিল করা সম্ভব নয়, সেখানে প্রাথমিকভাবে কিছু জটিলতা তৈরি হতে পারে।
সরকারের নতুন স্লোগান হলো: “এক খতিয়ান, এক মালিক, এক দাগ।”



